Skip to main content

আমরা কেন দেখি

https://assets.roar.media/Bangla/2018/02/Feature1.jpg
সৌন্দর্য মোটেও নিরপেক্ষ জিনিস নয়। তা কেবল স্থান, কাল ও পাত্রের উপর নির্ভর করে। এই পৃথিবীর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে আমাদের মনও হয় আপ্লুত। প্রকৃতির নানা রূপ-সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কত শত কবি লিখেছেন কবিতা, গীতিকার লিখেছেন গান। ভাবুন তো একবার! পৃথিবীর এই অপরূপ রূপের কিছুই কখনো দেখতে পেলেন না। আজীবন কাটালেন অন্ধকারের কালো দেখে। এক ভয়ংকর অনুভূতি হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই যে প্রকৃতির রূপ রঙ দেখি আমরা তা সম্ভব হয়েছে আমাদের দুই চক্ষুরত্নের দ্বারাই। চোখ আছে তাই মানুষ সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারে।
চোখ দিয়ে দেখা যতটা সহজ মনে হচ্ছে এটি ঠিক ততটা সহজও আসলে না। কিভাবে আমরা দেখি সেটা যদি একবার খুঁজে দেখা যায় তো বোঝা যাবে যে কত সূক্ষ্ম এক কারিগরি জ্ঞানে দর্শনতন্ত্র গঠিত। কোনো বস্তু দেখার জন্য মুহুর্তের মধ্যে আমাদের চোখ ও মস্তিষ্কে কত কিছু ঘটে যায় সেটা অনুমানের অতীত। সেসব নিয়েই আসুন জানা যাক।
মানুষের চোখের গঠন; সূত্র: webmd.com
আমাদের চোখের গঠন এতটাই জটিল যে সেটা মাঝে মাঝে কল্পনাকে হার মানায়। চোখের কার্যপদ্ধতি অনেকটা ক্যামেরার পদ্ধতির মতই। চোখের পাতা কাজ করে ক্যামেরার শাটারের মত, চোখের ভেতরে আছে স্থিতিস্থাপক লেন্স যা দর্শনীয় বস্তুকে ফোকাস করে এবং তারপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে একসময় তা আমরা দেখতে পাই। এই প্রক্রিয়াকরণ চলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই।
আমাদের চোখের গঠন সম্পূর্ণ গোলাকার নয়; কিছুটা অসম গোলাকৃতির এবং প্রায় এক ইঞ্চি ব্যাসের হয়ে থাকে। মানুষের চোখের আকৃতি মোটামুটি সারাজীবন একরকমই থাকে। চোখে সামনের অংশে থাকেআইরিশ নামক রঙিন অংশ, আইরিশের উপর কর্নিয়া নামক গম্বুজের মত অংশ, পিউপিল নামক কালো ও গোলাকার প্রবেশপথ যে পথ দিয়ে আলো চোখে প্রবেশ করে। স্ক্লেরা নামক চোখের সাদা অংশ এবং কঞ্জাঙ্কটিভা নামক পাতলা আবরণ যা কর্নিয়া বাদে চোখের বাকি অংশকে আবৃত করে রাখে।
Newsletter
Subscribe to our newsletter and stay updated.
আইরিশ ও পিউপিলের ঠিক পেছন দিকে আছে চোখের লেন্স আছে যা পেশী দ্বারা যুক্ত। এই লেন্সই প্রবেশকৃত আলোকে ফোকাস করে। একোয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার নামক পদার্থের সাহায্যে লেন্সের কাজ আরো সহজ হয়ে যায়। এরপর থাকে রেটিনা যা তড়িৎ সিগন্যাল তৈরী করতে সক্ষম।
তবে মানুষের চোখের সাথে অন্যান্য পশুপাখির চোখের গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পশুদের চোখ খুব সম্ভবত ১০০ মিলিয়ন বছর ধরে বিবর্তিত হতে হতে আদিম লাইট-ডার্ক সেন্সরের বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।

Comments

popular posts

আমরা কোথায়?